
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে চলমান প্রকল্পে অনেক অনিয়ম হচ্ছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাব নেই। প্রকল্পে নজরদারি বাড়াতে হবে।’ বুধবার (৭মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৩ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ সংক্রান্ত ৩টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সরকারের প্রথম একনেক সভায় আমি বলেছিলাম, প্রকল্প পাস মানেই ছাড়পত্র নয়। কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা প্রয়োজন না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কড়াইল বস্তিকে বাইপাস করে লেকের বাকি কাজ করা হবে। এই লেকের দূষণ অনেক বেড়ে গেছে। কিছু জমিও দখল হয়ে গেছে। কারণ ২০১০ সালে কাজ শুরু হয়ে প্রথমে চার-পাঁচ বছর কাজ হলেও এরপর আর তেমন কিছু হয়নি। তবে এবার ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। বর্জ্য পরিশোধন না করে যেন প্রকল্পের টাকা খরচ করা না হয়। এটি রাজউকের প্রকল্প হলেও বন বিভাগের লোককে সম্পৃক্ত করা হবে। এটি শুধু গুলশান-বারিধারার লেকের জন্য নয়, ঢাকা নগরকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্যই এই প্রচেষ্টা।’
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল। কিন্তু এ প্রকল্প নির্মাণের পর প্রকল্প পরিচালক ৬ হাজার ৫৭১ কোটি টাকার কোনো হিসাব দিতে পারেননি। বর্তমানে তিনি পলাতক। অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।’ ব্যবস্থাপনার সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইএমইডি প্রকল্পে যাবে। আমাদের সবার উচিত সৎ উদ্দেশ্যে প্রকল্পের তদারকি ও নজরদারি বাড়ানো। আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি করা হবে। এই মুহূর্তে তারা বেড়িবাঁধ দেখবে। কেন ভাঙছে, কাদের গাফিলতি, কারা জড়িত কমিটি তা দেখবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুদক গিয়ে তাদের ধরেছে। এটা গোপনের কিছু নেই।’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রকল্প অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় শুধু বাঁধ মেরামত হতেই থাকে। সময় বাড়ে, খরচও বাড়ে। কিন্তু কাজ শেষ হয় না। সমস্যা হলো, প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তৈরি হয় না। সড়কের সঙ্গে রেলপথেরও মহাপকিল্পনা থাকা উচিত।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেলায় জেলায় যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে তাদের ভাগ্যে কী আছে বলা মুশকিল। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এদের ব্যাপারে টের পেরেছি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুব্যোর (বিবিএসকে) নিজেদের মূল্যস্ফীতি ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল আলাদা দুটি নীতিমালার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।’