বিশেষ প্রতিবেদন:
অশিক্ষিত, মূর্খ, ধান্দাবাজ ও প্রতারক এশিয়ান টিভির নামধারী দুর্বৃত্ত সাংবাদিক মেহেদী হাসান কবির। লেখাপড়া করেছেন ৫ম শ্রেনি পর্যন্ত। চাঁদাবাজী ও ব্ল্যাকমেইলিং করতে তিনি এশিয়ান টিভির সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করছেন।
সাংবাদিকতা করার জন্য নূন্যতম স্নাতক পাস এশিয়ান টিভির অন্য সব সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে আবশ্যক হলেও ৫ম শ্রেনি পাশ কবিরকে বিশেষ ক্ষমতায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এশিয়ান টিভির রিপোর্টার হবার আগে বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত হয়ে সেখানেও অপকর্ম করেছে এই কথিত সাংবাদিক। তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।
প্রথমত, রায়পুরার এক মেয়ের সাথে অপকর্ম করতে গিয়ে ধরা পরেছিলেন। তখন সেখান থেকে বাচার জন্য সেই মেয়ের ৮ম স্বামী হতেও বাধ্য হয়েছিলেন। সেসময় কালবেলা পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিলো।
দ্বিতীয়ত, পিকাপ চুরির দায়ে ভৈরবে RAB এর হাতে ধরাও পড়েছিলেন এই মেহেদী হাসান কবির।
তৃতীয়ত, বেলাব থানায় এবং পঞ্চগড়ে চাঁদাবাজীর মামলা আছে এই মেহেদী হাসান কবিরের বিরুদ্ধে। নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার আমলাব গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে এই দুর্বৃত্ত সাংবাদিক মেহেদী হাসান কবির।
চতুর্থত, ছোটবেলায় এলাকায় ছাগল চুরি করে ধরা পরেছিলেন। একবার কিশোরগঞ্জে ডাকাতি করতে গিয়ে অস্ক্রসহ ধরা পরেছিলেন।
পঞ্চমত, মেহেদী হাসান কবির ভূয়া পুলিশ পরিচয়ে রায়পুরা থানার নিলকুটি গ্রামের মাসুদ নামের এক এনজিও কর্মীকে অপহরণের চেষ্টা করেছিলো। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আনামুখদোয়া নামক স্থান থেকে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় মাসুদকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় কবিরকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। সেসময় কবিরের সাথে অবৈধ অস্ত্র ছিলো বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
এছাড়াও বীমার টাকা আত্মসাৎ করার কারনে ৭ থেকে ৮ মাস জেলও খেটেছিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, বিগত আওয়ামীলীগের শাসনামলে উত্তরার একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা আছে বলে নিউজ করে বিএনপির এক নেত্রীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদাও নিয়েছিলেন তিনি।
তার সম্পর্কে আরও জানা যায় যে, অল্প শিক্ষিত হলেও এশিয়ান টিভির সাইনবোর্ডকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে এই মেহেদী হাসান কবির। তিনি চলাফেরা করেন দামী গাড়িতে। এশিয়ান টিভির বার্তা বিভাগের এক কর্তা জানিয়েছেন কবির এশিয়ান টিভিতে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। তিনি প্রতিমাসে এশিয়ান টিভিকে ১০ লাখ টাকা করে এনে দেবে সেই চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মর্মে এশিয়ান টিভি থেকে গাড়ি, ক্যামেরাসহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়।
ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে রাতের অধারে তার টার্গেট করা ব্যক্তিদের বাড়িতে দলবলসহ তার ক্যামেরা ও বুম দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখান। সম্প্রতি রাত ১ টার দিকে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তার দলবল নিয়ে শোডাউন দিতে দেখা যায়। ঐ ব্যক্তির কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করেছিলো ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফোটেজ দেখে তার সত্যতা পাওয়া যায়।
এশিয়ান টিভি কবিরকে দিয়ে চাঁদাবাজী করায় সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে নিউজ হলে কবির সেই গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করে।
এই ধান্দাবাজ, বাটপার, প্রতারক সাংবাদিক মেহেদী হাসান কবিরদের বিরুদ্ধে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এশিয়ান টিভি দির্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে আইডিকার্ড বিক্রি করে আসছে যার ফলে মেহেদী হাসান কবিরের মত অশিক্ষিত, মূর্খ, প্রতারক, ধান্দাবাজ সাংবাদিকতাকে কুলশিত করার সুযোগ পাচ্ছে।
তাই এসকল ধান্দাবাজ, প্রতারক ও কলঙ্কিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরী।